- Get link
- X
- Other Apps
প্রিয় রুকু,
ঠিক করেছি তোমায় চিঠি লিখব মাঝে মাঝে। কেন? কারণ তুমি বড় হতে হতে চিঠি লেখা এই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে বলেই আমার মনে হয়। কেউ বোধহয় আর ডায়েরির মাঝের পাতায় ছোট ছোট করে লিখবে না — “আজ আমার খুব মন খারাপ।”
আজ আমার সত্যিই খুব মন খারাপ। কিন্তু আমার আর কোনো ডায়েরি নেই যেখানে লিখে রাখব মন খারাপ।
কেন মন খারাপ?
কারণ আমার নিজেকে খুব খারাপ মা বলে মনে হয়। অনেক চেষ্টা করেও আমি gentle parenting বিষয়টা রপ্ত করতে পারিনি। আসলে আমি নিজেও তো... না, আমার মা বা বাবা কেউই বোধহয় কোনোদিন আমার parent হতে চায়নি। তাই parenting বিষয়টা নিয়ে তারা কোনোদিন চিন্তাভাবনা করেছিলেন বলে মনে হয় না।
মাঝে মাঝে ভাবি, এই যে আমরা নিজেদের এত ভালোবাসি, নিজেদের এত এত গুরুত্ব দিই — নিজের ভালো লাগা, পছন্দের রং, পছন্দের গান — অথচ আমাদের এই পৃথিবীতে আসার সময় কিন্তু আমাদের কোনো আমিত্বের অস্তিত্ব থাকে না। কী অসহায়ভাবে আমরা এসে পড়ি আমাদের অপছন্দের জায়গায়।
একসময় খুব ভাবতাম এই সব কষ্ট না-পাওয়া ভুলে যাব যদি দিগচক্রবালের দিকে তাকিয়ে এক টুকরো বরফঘেরা পাহাড় দেখতে পাই। না, কলকাতার কোনোদিন পাহাড় হবে না — এই সত্যটা আমার বুঝতে, হজম করতে অনেক সময় লেগেছিল।
কিন্তু আমার বাড়িতে যে একটা আস্ত পাহাড় আসতে পারে, তা আমি কোনোদিন ভাবিনি। অথচ ভাবা উচিত ছিল জানো? আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে মনে... কত কী কল্পনা করতাম, স্বপ্ন দেখতাম। অথচ ভাবা উচিত ছিল তোমার কথা, পাহাড়কে ঘরের ভিতর, বুকের ভিতর নামিয়ে আনার কথা। সকল জীর্ণ হয়ে যাওয়া অপ্রাপ্তির জঙ্গলকে সাফাই করে নিয়ে অপেক্ষায় থাকা উচিত ছিল... হয়তো আরও ভালো সময় কাটাতে পারতাম আমরা।
সময়। এই সময়কেই আজকাল আমার বড় ভয় করে। ফুরিয়ে যাচ্ছি হুহু করে...
আমরা কি একসাথে চকবাজারের গলি গলিতে শুঁটকি কিনে ফেরার পথে পয়টাক মাখন তুলে নেব ডিম ভাজার জন্য? পাহাড়ি ঠান্ডার রাতে হাতে হাত ঘষতে ঘষতে হাঁটতে বের হয়ে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ব একে অপরের গায়ে? কিংবা মুস্তাং ভ্যালি ট্রেক করতে যাব — পিঠে রুকস্যাক, পকেটে চিকলেট, চোখে কুয়াশাভেজা হাসি।
হয়তো এত শত কিছুর আগেই আমার ডাক এসে যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে।
তবু যেন তুমি আমার মেঘ, আমার বরফঘেরা পাহাড়, আমার শান্তি, আমার তৃষ্ণার জল। আমার সব আশা-আকাঙ্ক্ষার কাব্যিক রূপ। আমার অস্তিত্ব।

Comments